রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ওডেক্স থেকে সরাসরি টাকা তুলুন আপনার ডাচ-বাংলা ব্যাংক মোবাইল অ্যাকাউন্টে কোন ঝামেলা ছাড়াই।



অনেকই জানে না যে ওডেক্স থেকে ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকে উইথড্রো দেওয়া যায়। তাদের জন্য আমার এই পোষ্ট। বিশেষ করে যারা শহর থেকে দূরে আছেন এবং আশে পাশে সকল ব্যাংক সহজলভ্য নয় এবং যাদের আইডি ভেরিফাইড করা হয় নাই তাদের জন্য আমি মনে করি সর্বাধিক উপযোগী পদ্ধতি হল ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এ টাকা উইথড্রো দেয়া। এছারাও এর নানাবিধ সুবিধাও রয়েছেন চলুন তা শুরু করা যাক।
প্রথমে ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকে একটা একাউন্ট করে নিন। আপনার কলেজের আইডি দিয়েও এই একাউন্ট করতে পারবেন। খরচ পরবে মাএ ১০০ টাকা। যার মধ্যে আপনি ৪০ টাকা চাইলে তুলে নিতে পারবেন আপনার একাউন্ট একটিভ হবার সাথে সাথে। একটিভ হবে ২ দিনের মধ্যেই। এবার ওডেক্সে গিয়ে wallet থেকে add withdrawal method এ ক্লিক করুন। এখান থেকে local fund transfer এ ক্লিক করুন। bank swift code চাইবে। সেখানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সুইফট কোড DBBLBDDH দিয়ে go তে ক্লিক করুন। দেখবেন অটোমেটিক ভাবে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঠিকানা শো করতেছে। নিচের দিকে আপনার কাঙ্খিত সব তথ্য দিয়ে সাবমিট করুন। একাউন্ট নাম্বারের স্থানে আপনার ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকের ১২ ডিজিটের নাম্বার টা দিন( আপনার ১১ সংখ্যার মোবাইল নাম্বার + একটা চেক ডিজিট) । ব্রাঞ্চ এড্রেস এর জায়গায় আপনি যে উপজেলা ব্রাঞ্চ এর আওতাধীন ঐ ব্রাঞ্চের নাম ও এড্রেস দিন। পরবর্তী ফিল্ড গুলো পূরণ করুন। এবার  ‘এড দিস একাউন্ট’ এ ক্লিক করুন ব্যাস হয়ে গেল।
বিদ্রহ: তিন দিন সময় নিবে একাউন্ট একটিভ হতে। একটিভ হয়ে গেলেই উইথড্রো দিতে পারবেন। টাকা সরাসরি আপনার মোবাইলে ব্যাংকের একাউন্টে জমা হবে।


এটিএম হ্যাকার থেকে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার পদ্ধতি


এটিএম স্কিমার হলো এটিএম বুথে বিপদজ্জনক ডিভাইসের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের অপরাধী। সারাবিশ্ব জুড়ে এটিএম স্কিমার একটি নতুন আতঙ্কের নাম। এই ধরণের স্কিমাররা এটিএম বুথে বিভিন্ন ডিভাইস স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের এটিএম কার্ডের পিন নাম্বার নিয়ে নেন এবং তার মাধ্যমে টাকা চুরি করেন।
যেভাবে এটিএম স্কিমাররা তাদের অপরাধ সংগঠিত করে থাকেন?
একজন এটিএম স্কিমার বিশেষতদুটি কম্পোনেট ব্যবহার করে থাকেন। প্রথম কম্পোনেন্টটি তারা এটিএম কার্ডের স্লটের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেন। যখন আপনি আপনার এটিএম কার্ডটি স্লটের ভেতরে প্রবেশ করান তখন এটি আপনার কার্ডের বিস্তারিত তথ্য কপি করে নেয়। কার্ডটি স্লটের ভেতরে প্রবেশ করে তা দেখতে একেবারেই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া মনে হয়ে থাকে। কিন্তু এর মধ্যেই আপনার কার্ডের যাবতীয় তথ্য ডিভাইসটির ম্যাগনেটিক স্ট্রিপে কপি করে নিয়েছে। আর দ্বিতীয় কম্পোনেন্টটি হলো একটি ক্যামেরা।
এই ক্যামেরাটি এমন একটি জায়গায় স্থাপিত হয়ে থাকে যেন তা এটিএম স্লটের কিপ্যাডটি ভালোভাবে ধারণ করতে পারে। এর ফলে গ্রাহকদের পিনকোডটি ধারন করা সম্ভবপর হয়। পরবর্তীতে এটিএম স্কিমাররা এই দুটি কম্পোনেন্টের সকল তথ্যকে ব্যবহার করে এবং তা দিয়ে বিভিন্ন এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেয়। দিনকে দিন এই ধরনের স্কিমাররা প্রযুক্তিগতভাবে আরো উন্নত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন এটিএম স্লটের কিপ্যাডের উপর পাতলা একটি কাগজ বসিয়ে দিচ্ছে কিংবা নকল নাম্বারপ্যাড বসিয়ে দিচ্ছে। এই ধরনের কিপ্যাডের মধ্যে ব্লুটুথ ডিভাইস দেওয়া থাকে। এর মাধ্যম গ্রাহকদের পিনকোড গ্রহন করা সম্ভব। গ্রাহকরা এই ধরণের কিপ্যাড ধরতেই পারছে না। ফলে তারা এটিএম স্কিমারের শিকার হচ্ছে।
কিভাবে এটিএম স্কিমার ডিভাইস ধরতে পারবেন:
আপনার ব্যবহৃত এটিএম বুথের স্লটটিতে কি কোন ধরনের স্কিমার ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে তা কিছু ট্রিকস অনুসরণ করলে নিজেই বুজতে পারবেন।
১.কার্ড রিডার স্লটে কার্ড প্রবেশ করানোর সময় কার্ডটি যদি smoothly প্রবেশ না করে কিছুটা আটকে যায় তবে বুঝবেন এর ভেতরে স্কিমার ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে যা আপনার কার্ডের বাহ্যিক তথ্যগুলো ধারণ করবে। একটি ভালো কার্ডের আকার অনুযায়ী স্বাভাবিক। সেখানে বহিরাগত কোন ডিভাইস প্রবেশ করালে তা কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি করে।
২.আপনার কার্ডটি স্লট মেশিনে প্রবেশের পূর্বে ভালোভাবে দেখে নিন যে অস্বাভাবিক কোন কিছু মনে হচ্ছে কি?কেননা আপনি নিয়মিত টাকা তুলে থাকলে আপনার নিকট এটিএম বুথটি বেশ পরিচিত থাকবে। কিন্তু সেখানে স্কিমার যদি কিপ্যাড পরিবর্তন করে কিংবা কিপ্যাডের উপর পাতলা কোন স্বচ্ছ কাগজ ব্যবহার করে থাকে তবে তা আপনার চোখে লাগবে।
৩.এটিএম বুথের ভেতরে কোন ধরণের অস্বাভাবিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে কি লক্ষ্য করুন। চারপাশটি ভালোভাবে দেখে নিন কোন কিছু কি আপনার চোখে অস্বাভাবিক লাগছে।
কিছু সতর্কতা মেনে চলুন:
১.এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে কিপ্যাড ব্যবহারের সময় অপর হাত দিয়ে কিপ্যাডটি ঢেকে রাখুন এতে করে লুকানো ক্যামেরায় আপনার কোডটি ধারণ করা সম্ভবপর হবে না। তাছাড়া কিপ্যাডটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। মনে রাখুন পূর্বের ট্রানজিকশনের সময় কি এই কিপ্যাডটিই ছিল কিনা।

২.নিয়মিত আপনার লেনদেনের হিসাব মনিটরিং করুন। আমাদের দেশে বিভিন্ন অনলাইন ব্যাংকিং তাদের গ্রাহকদের প্রতিটি ট্রানজিকশনের জন্য মোবাইল অ্যালার্ট দিয়ে থাকেন। এই সার্ভিসটি চালু রাখুন এতে করে আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপওা নিশ্চিত করা যাবে।

এটিএম কার্ডের প্রয়োজনীয়তা


একটা সময় ছিল যখন একজন মানুষের ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হলে তাকে তার ব্যাংকটাতেই যেতে হতো। কিন্তু এখন আর সেটি করতে হয় না। যেসব ব্যাংক অনলাইন হয়ে গেছে সেগুলোতে দেশের যেকোনো ব্যাংক থেকে টাকা তোলা যায়। শুধু তাই নয়, যেখানে এটিএম মেশিন আছে সেখান থেকে ব্যাংক কার্ড দিয়ে দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টার যেকোনো সময় টাকা তোলা যায়। ব্যাপারটি আরও সহজ করার জন্যে ইদানীং মোবাইল টেলিফোন ব্যবহার করে ব্যাংকিং শুরু হয়ে গেছে।

একটা ই-বুকে কয়েক হাজার বই রাখা যায়।


একজন শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আনন্দের ধ্বনি কী বলতে পারবে? অনেকেই অনেক কিছুই বলতে পারে কিন্তু সবাই জানে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যে সেটা হচ্ছে ছুটির ঘন্টা।  স্কুলে যখন ছুটির ঘন্টা বাজে তখন পৃথিবীর কোথাও এমন কোনো স্কুল নেই যেখানে শিক্ষার্থীরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে না, আনন্দের একটা শব্দ করে না! যাঁরা শিক্ষা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন তাঁরাও সেটা জানেন। তাই সব সময় চেষ্টা করেন কীভাবে একজন  শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনটা একটু হলেও বেশি আনন্দময় করা যায়।

লেখাপড়ার ব্যাপারে যখন আইসিটি ব্যবহার করতে শুরু করা হয়েছে তখন হটাৎ করে সেই কাজটি সহজ হতে শুরু করেছে। এখন শুধু সারাক্ষণ শিক্ষকের বক্তৃতা শুনতে হবে না, মাথা গুঁজে কোনো কিছু মুখস্থ করতে হবে না। এখন মাল্টিমিডিয়াতে লেখাপড়ার অসংখ্য চমকপ্রদ বিষয় দেখানো যায়, বিজ্ঞানের বিষয়গুলো স্ক্রিনে প্রদর্শন করা যায়, এমনকি পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখে সরাসরি কম্পিউটারে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এখন ব্যাগ বোঝাই করে পাঠ্য বই নিয়ে যেতে হয়। কিছুদিন পর আর তার প্রয়োজন হবে না। একটা ই-বুকে শিক্ষার্থীরা শুধু যে তার পাঠ্য বই রাখতে পারবে তা নয়; লাইব্রেরির কয়েক হাজার বই পর্যন্ত রাখতে পারবে।

হার্টের অসুখে



ধনী এবং শিক্ষিত স্ত্রী ও পুরুষদের মধ্যেই হার্টের অসুখের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ফল ও সবজি এসব ক্ষেএে দামি ওষুধের চেয়ে বেশি কাজ করে। সময়ের ফল যেমন নারিকেল,নাশপাতি,খেজুর,পানিফল ও আপেল হার্টের অসুখে টনিকের কাজ করে।
প্রাচীন ও আধুনিক সব ধরণের চিকিৎসকেরা হার্টের অসুখে আপেলের গুন ও উপকারিতা সম্পর্কে একমত। দুর্বল হার্টের রোগীকে অসুখে আপেলের গুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে একমত। দুর্বল হার্টের রোগীকে আপেলের জ্যাম খাওয়াতে পারলে ভাল হয়। তাজা আঙুর,আনারস,কমলালেবু,আতা এবং ফলসা হার্টেকে মজবুত করে। বাদাম ভেজানো পানি ও নারিকেলের পানিও হার্টের পক্ষে সঞ্জীবনীর কাজ করে।
বুক ধড়ফড়ানি:
বুকের ব্যথা এবং বুক ধড়ফড়ানিতে আঙুর খুব কাজ দেয় এবং এই অসুখকে খুব তাড়াতাড়ি আয়তে আনা যায় যদি রোগী বলতে গেলে শুধুই আঙুর খেয়ে থাকেন। তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে যে সময়ে ধড়ফড়ানি ও ব্যথা হয় সেই সময়ে আঙুরের রস কয়েক দিন খাওয়াতে হবে তাতে অন্তত ব্যথা ও ধড়ফড়ানি কমবে।
মনকে শান্ত করতে কমলালেবু: কমলালেবু ফল হিসেবে হার্ট ও বুকের ব্যথায় অত্যন্ত উপকারি। কি ভাবে এই ফল খেলে মন শান্ত হয় সেটা বলা যাক।
খুব দামি জাতের কমলালেবু কিনে খোসা ছাড়িয়ে কোয়ার ওপরের সাদা শিরা বাদ দিয়ে ও ঝিল্লি ছাড়িয়ে ভেতরের শাঁস বের করে একটা কাচের বাটিতে চিনির রসের মধ্যে দু তিন ঘন্টা ডুবিয়ে রাখুন। তারপরে এই শাঁস রস থেকে বের করে নিয়ে খেলে টনিকের মতো কাজ করবে। তা না হলে যদি কোনও মাটির পাএে বরফের মধ্যে রেখে খাওয়া যায় তাহলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যাবে।


হাই ব্লাড প্রেসারে লাউ



লাউ মূলত গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুর সবজি। তবু শীতকালেও লাউ হয়। লম্বা ও গোল এই দুই আকারের লাউ বাজারে পাওয়া যায়। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম হল- লাজেনারিয়া ভালগারিস।
পুষ্টিগুন: পুষ্টিবিজ্ঞানীদের কথায় প্রতি ১০০ গ্রাম লাউ এর মধ্যে আছে-
       র্কাবোহাইড্রেট
        ২.৫ গ্রাম              
       প্রোটিন
        ০.২ গ্রাম
       ফ্যাট
        ০.১ গ্রাম
       আঁশ
        ০.৬ গ্রাম
       নিকোটিনিক অ্যাসিড
        ০.২ মিগ্রা.
       ক্যালসিয়াম
        ২০ মিগ্রা.
       ফসফরাস
        ১০ মিগ্রা.
       পটাশিয়াম
        ৮৭ মিগ্রা.
       ভিটামিন-সি
        ৬ মিগ্রা.

উপকারিতা: লাউ এর মধ্যে খাদ্যোপাদানগুলি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এতে ভিটামিন ‘এ’ থাকে না। পুষ্টির অভাব মেটাতে মাঝে মাঝে মধ্যে অন্য সবজি না পাওয়া গেলে লাউ খেতে পারেন। এতে অধিক পরিমানে পটাশিয়াম থাকায় উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন এমন রোগীর পক্ষে লাউ অত্যন্ত উপকারি। লাউ হল ভেষজগুন সম্পন্ন সবজি। গরমকালে লাউ খেলে শরীর ঠান্ডা থাকবে এবং দেহে পানির ঘাটতি মেটাবে। লাউ হল বলকারক সবজি। আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অর্শ রোগে যাঁরা ভুগছেন তারা লাউ খেলে উপকার পাবেন।
সাবধানতা: আবার যাঁদের ঠান্ডা ও কফেরধাত আছে তাঁরা লাউ এড়িয়ে চলুন।
ব্যবহার পদ্ধতি: লাউ সেদ্ধ, তরকারি, শুক্তো অথবা ডালের সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন।







সুস্থ থাকুন, গাজর খান



গাজর হল একটি মূলজ সবজি। শীতের মৌসুমে বাজারে  একে পাওয়া যায়। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম হল- ডকাশ ক্যারোটা। গাজর যেমন পুষ্টিকর সবজি তেমন শরীরের জন্য দারুন উপকারী। গাজরের পুষ্টিগুনের কথা আমরা অনেকেই জানি না।
পুষ্টিগুন: পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী গাজরে পাবেন-

       র্কাবোহাইড্রেট
        ১০.৬ গ্রাম            
       প্রোটিন
        ০.৯ গ্রাম
       ফ্যাট
        ০.২ গ্রাম
       আঁশ
        ১.২ গ্রাম
       নিকোটিনিক অ্যাসিড
        ০.৬ মিগ্রা.
       লোহা
        ১.৫ মিগ্রা.
       ক্যালসিয়াম
        ৮০ মিগ্রা.
       ফসফরাস
        ৩০ মিগ্রা.
       পটাশিয়াম
        ১০৮ মিগ্রা.
       ভিটামিন-এ
         ৩১৫০ আই, ইউ
       থায়ামিন
        .০৪ মিগ্রা.

উপকারিতা: গাজরে প্রচুর ভিটামিন এ আছে। এই ভিটামিন ‘এ’-র অভাবে শরীর ব্যাধিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। শরীরের বৃদ্ধি থেমে যায়- শারীরিক ক্ষমতা কমে যায়। খাদ্য দ্রব্য হজম হতে অনেক দেরি লাগে, চামড়া খসখসে হয়ে যায়-ত্বকের রোগ দেখা দেয়।
১.গাজর খেলে শরীর নরম ও সুন্দর হয়। শরীরে শক্তির সঞ্চার হয় আর ওজন বাড়ে।
২.শিশুদের গাজরের রস খাওয়ালে দাঁত বেরোতে কোনো কষ্ট হয় না আর দুধও ঠিক মতো হজম হয়।
৩. অর্শ,ক্ষয়রোগ,পিও রোগে গাজর খেলে সুফল পাওয়া যায়। গাজরের রস মস্তিষ্কের পক্ষেও ভাল।
৪.শরীরের পুষ্টি এবং বুদ্ধির বিকাশের জন্য গাজর খাওয়া খুবই প্রয়োজন।
৫.গাজর খেলে রং ফর্সা হয়, মুখের সৌন্দর্য বাড়ে, কারণ গাজরে আছে রক্ত পরিষ্কার করবার গুন।
৬.গাজরের বীজে পানি মিশিয়ে বেটে পর পর পাঁচ দিন পান করলে মেয়েদের ঋতু প্রাপ্তি হয়।

৭.গাজর সেদ্ধ করে পুলটিস বাঁধলে ক্ষত, ফোঁড়া আর সব রকমের খারাপ ধরণের ঘা সেরে যায়।

সুস্থ থাকতে শিম এর ব্যবহার


শিম পরিপাকে মধুর, শীতল অর্থাৎ ঠান্ডা করে, ভারি অর্থাৎ গুরুপাক বলপ্রদ বা বলদায়ক, দাহক, কফকারক বা কফ বৃদ্ধি করে, বাতল অর্থাৎ বাত ব্যাধিকারক, কিন্তু বায়ু ও পিও দূর করে। ঘন সবুজ রঙের চওড়া শিম বায়ু দূর করে,গরিষ্ঠ বা গুরুপাক, শরীর গরম করে, কফ ও পিত্ত বাড়িয়ে তোলে,বীর্য হ্রাস করে,খিদে কমিয়ে দেয়, মলরোধ করে, ভারি কিন্তু রুচিকারক।
১.বড় আকারের শিম রুচিকর, বাতল,অগ্নিদীপক অর্থাৎ খিদে বাড়ায় এবং মুখের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে।
২.কালচে রঙের শিম স্বাদে কষায়, পরিপাকে মধুর, রুচিকর, খিদে বাড়ায় এবং মল রোধ করে।
৩.সাদা শিম শরীরের বাত ও কফ সৃষ্টি করলেও বিষ নাশ করে। হলদ;এটে রঙের শিম সবচেয়ে বেশী উপকারী।
৪.বিছে কামড়ালে শিম পাতার রস লাগালে আরাম পাওয়া যায়।
৫.গাঢ় সবুজ রঙের শিমের চেয়ে সাদা শিম পথ্য হিসাবে ভাল। বলা হয় সাদা শিম শ্লেষ্মা,বাত,তিপ্ত ও ব্রণদোষ নাশ করে।
৬.চুন ও শিম পাতার রসের প্রলেপ লাগালে কানের লতির বা কর্ণমূলের ফোলা সারে এবং গলায় প্রলেপ লাগালে গলার ব্যাথা কমে।

৭.শিম বায়ুকারক তবে শিমের তরকারি তেল দিয়ে রান্না করলে এই দোষ খানিকটা কমে। শিমে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম,ম্যাগনেশিয়াম,ফসফরাস,সোডিয়াম,পটাসিয়াম,গন্ধক আর লোহা আছে। বেশিমাএায় ভিটামিন-এ এবং অল্পমাএায় ভিটামিন-সি আছে।

সুস্থ থাকতে পটোল খান


পটোল হল আমাদের সবার পছন্দের সবজি। শীতকাল ছাড়া প্রায় সারা বছর বাজারে পটোল পাওয়া যায়। তবে গ্রীষ্মকালে এর উৎপাদন বেশী হয়ে থাকে। পটোলের ফল এবং পাতাসমেত কচি ডাল দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়ার চলন আছে। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম হল- ট্রাইকো স্যানথোস ডাইওইকা।
পুষ্টিগুন: পটোল হল পুষ্টিসম্পন্ন সবজি। খেতেও সুস্বাদু। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা দেখছেন ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী পটোলের মধ্যে আছে-
       র্কাবোহাইড্রেট
        ২.২ গ্রাম              
       প্রোটিন
        ২ গ্রাম
       ফ্যাট
        ০.৩ গ্রাম
       আঁশ
        ৩ গ্রাম
       নিকোটিনিক অ্যাসিড
        ০.৫ মিগ্রা.
       লোহা
        ০.৭ মিগ্রা.
       ক্যালসিয়াম
        ৩০ মিগ্রা.
       ফসফরাস
        ৪০ মিগ্রা.
       পটাশিয়াম
        ৮৩ মিগ্রা.
       ভিটামিন-সি
        ২৯ মিগ্রা.
       ভিটামিন-এ
         ২৫৫ আই, ইউ

উপকারিতা:
১.পটোলের রস মাথায় লাগালে টাক পড়া বন্ধ হয় ও মাথায় নতুন চুল গজায়।
২.পটোলের তরকারি খেলে হজম করবার ক্ষমতা বেড়ে যায়।
৩.কাশি,জ্বর ও রক্তের দোষ অর্থাৎ রক্তবিকার সারে।
৪.এলাচ,দারচিনি ও লবঙ্গের গুড়ো মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে ।
৫.তেতো পটোলের ক্বাথ তৈরীকরে মধু মিশিয়ে খেলে পিওজ্বর সারে,তৃষ্ণা নিবারণ হয় আর শরীর জ্বালা কমে।
৬.তেতো পটোলের শিকড় সেদ্ধ করে সেই পানি চিনি মিশিয়ে খাওয়ালেও পিওজ্বরে উপকার হয়।
৭. ১০ গ্রাম তেতো পলতে, ১০ গ্রাম ধনে এক কাপ পানিতে রাএিরে ভিজিয়ে রাখুন। সকালবেলা এই পানি ছেঁকে নিয়ে মধু মিশিয়ে দিনে তিনবার খান-সমস্ত কৃমি নাশ হবে।
৮.পটোল খেলে ত্বকের রোগেও উপকার হয়। তেতো পটোল ও তেতো নিম পাতার ক্বাথ দিয়ে ফোঁড়া ধুয়ে নিলে তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

৯.তেতো পটোলের পাতার রস টাকের পক্ষে উপকারী।

সুস্থ থাকতে চালকুমড়া খান


১.কুমড়ো বা চাল কুমড়ো খেলে পরিশ্রম করবার শক্তি বেড়ে শরীর পুষ্ট হয়।
২.এই সবজি বলকারক,পুষ্টিকর,ফুসফুসও ভাল রাখে। চাল কুমড়োর বীজ কৃমি নাশ করে।
৩.দু-চার চা চামচ চাল কুমড়োর রস বের করে নিয়ে তাতে চিনি মিশিয়ে খেলে অম্বল বা অজীর্ণ রোগ সারে।
৪. চাল কুমড়োর রস একটু চিনি ও জাফরানের সঙ্গে পিষে খেলে মৃগী ও উন্মাদ রোগে উপকার পাওয়া যায়।
৫.কোনো কোনো চিকিৎসকের মতে যক্ষ্মা,অর্শ,গ্রহনী প্রভৃতি অসুখেও চালকুমড়ো খেলে উপকার হয়।

৬.ডায়বেটিসে চালকুমড়োর রস খাওয়া অতি হিতকর। চাল কুমড়োর মোরব্বা,হালুয়া,অবলেহ ও চাল কুমড়োর বীজের লাড্ডু অনেক রোগ সারিয়ে তোলে।

সবজি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা


১.পানিতে ভিজানো বা চোবানো সবজি খুব তাড়াতাড়ি পচে নষ্ট হয়ে যায়। অকারণে সবজি ফেলে রেখে শুকোবেন না। কারণ এতে সবজির খাদ্যগুন নষ্ট হয়ে যাবে।
২.সবজি কখনই কাটার পর ধোবেন না। বরং কাটার আগে ভালোমতন ধুয়ে তবেই কাটবেন। তাতে সবজির মধ্যে থাকা পুষ্টি বা খাদ্যোপাদানগুলি বের হয়ে রান্না তরকারিতে চলে আসবে।
৩.কাটা সবজি বেশীক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না। কারণ এতে খাদ্যগুন নষ্ট হয়ে যাবে।
৪.সবজি খুব ছোট বা কুচি-কুচি করে কাটবেন না। কারণ এর ফলে সবজি বেশী করে অক্সিজেন মংস্পর্শে আসবে এবং ভিটামিনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।
৫.রান্নার সময় সবজি সেদ্ধ করা পানি ফেলে দেবেন না।
৬.সবজি ফ্রীজে সংরক্ষণের সময় গায়ে লেগে থাকা জলীয় অংশ শুকিয়ে তবেই রাখবেন। পানি লেগে থাকা বা ভেজা সবজি সংরক্ষণ করলে শিঘ্রই পচে নষ্ট হয়ে যাবে।
৭.সবজি খবরের কাগজ বা পাতলা পলিথিণ প্যাকেটে জড়িয়ে বা ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে দিন। এতে সবজি টাটকা থাকবে। তবে কখনই শাকপাতা বা অধিক জলীয় অংশ আছে এমনসব সবজি সংরক্ষন করবেন না

সজনে ডাঁটা, পাতা ও ফুল



সজনের পাতা, ফুল ও ডাঁটা এই তিনটি অংশই হল পুষ্টিগুনে ভরপুর। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী পাতা ও ডাঁটায় পাওয়া যায়।
 
    পাতায়
    ডাঁটায়
  কার্বোহাইড্রেট
    ১৩.৪ গ্রাম
    ৩.৭ গ্রাম
   প্রোটিন
    ৬.৭ গ্রাম
     ২.৫ গ্রাম
    ফ্যাট
    ১.৭ গ্রাম
     ০.১ গ্রাম
    আঁশ
    ০.৯ গ্রাম
     ৪.৮ গ্রাম
    লোহা
    মিগ্রা.
     ৩.৩ মিগ্রা.
     ক্যালসিয়াম
     ৪৪০ মিগ্রা.
    ৩০ মিগ্রা.
     ফসফরাস
    ৭০ মিগ্রা.
     ১১০ মিগ্রা.
     আয়োডিন
    ৫.১ মাইক্রোগ্রাম
     ১.৮ মাইক্রোগ্রাম
     ভিটামিন-‘সি’
    ২২০ মিগ্রা.
     ১২০ মিগ্রা.
     নিকোটিনিক অ্যাসিড
      ০.৮ মিগ্রা.
     ০.২ মিগ্রা.
     ভিটামিন-‘এ’
   ১১৩০০ আই.ইউ
     ১৮৪ আই.ইউ


উপকারিতা: বাজারে আমরা চড়া দাম দিয়ে ডাঁটা কেউ মাথায় রাখে না। এই পাতা শাক হিসেবে গ্রাম গঞ্জের লোকেরা খায়। এটি গরিব লোকদের কাছে ভিটামিন বলে পরিচিত। পাতা শাক খেলে উচ্চ-রক্ত চাপ কমে যায়।
প্রেসারের রোগীদের কাছে এটি হল মহৌষধ। ফাল্গুন-চৈএ মাসে হাম-বসন্তের মতো রোগ দেখা যায়। আর ঠিক এসময়েই পাওয়া যায় সজনের ফুল ও ডাঁটা। কবিরাজ মহাশয়েরা বলেন সজনের ফুল সবজি হিসেবে খেলে হাম-বসন্ত হবে না। আবার ইউনানী ডাক্তাররা বলেন সজনে ফুল সর্দি-কাশি,প্লীহা,যকৃতের দোষ এবং ক্রিমির মতো রোগে টনিকের মতো কাজ করে।

পাতাশাক খেলে সর্দি-কাশি জ্বর সারে খাবারে অরুচি দূর হয় এবং ক্ষিদে বাড়ায়। আমাশয়,বাত এবং পেটের গন্ডগোল পাতাশাকের ঝোল বেশ কার্যকারী। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পাতা ও ডাঁটা খেলে শিশুদের হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত হয়। সজনের পাতায় প্রচুর পরিমানে লোহা থাকায় শিশু ও গর্ভবতী মায়ের দেহে লোহার ঘাটতি মেটায় এবং রক্তল্পতার মতো সমস্যায় দারুণ কাজ দেয়। এজন্য নিয়মিত আহারে সজনের শাক রাখুন।