শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৫

রূপ চর্চায় করণীয়





আলো
মেকআপ শুরু করার আগে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা উচিত। সূর্যের আলোয় মেকআপ করা খুবই মুশকিল। মুখের ওপর ছায়াপরে। সুতরাং মেকআপের জন্য উজ্জল লাইট জ্বালিয়ে ব্যবস্থা নেয়াই ভালো। লক্ষ্য রাখবেন আলো যেন চারিদিক থেকে মুখের ওপর সমানভাবে পরে।
ত্বকচর্চা
প্রথমে মুখ খুব ভাল করে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে পরিষ্কার করুন। তারপর বরফের কিউব দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে খোলা রোমছিদ্রগুলি সঙ্কুচিত হবে। এরপর নিজের ত্বকের চেয়ে একটু উজ্জল রঙের ফাউন্ডেসন লাগান।
কন্সিলার
কন্সিলার ফাউন্ডেশন লাগানোর আগে ব্যবহার করা উচিত। চোখের চারপাশের কালো ঘেরা, ডবল চিন , কুচকে যাওয়া ত্বক, কালো ছোপ, দাগ ইত্যাদি ঢাকার জন্য কন্সিলার ব্যবহার করা হয়। এতে মুখের ক্রটি বিচ্যুতি কিছুটা ঢাকা যায়। ‘ওয়াটার বেসড কন্সিলার’-ই সবচেয়ে ভাল। কারণ বেশি ঘন থাকে। সাধারণ কন্সিলারের বিকল্প হিসেবে ক্রিম ফাউন্ডেশনও লাগাতে পারেন। তবে রঙ যেন খুব হাল্কা হয় এবং ত্বকের সঙ্গে মিলে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।
ফেস পাউডার
ফাউন্ডেশন সেট করার জন্য ফেস পাউডার লাগানো প্রয়োজন। এর জন্য ড্রান্সলুসেন্ট ফেস পাউডার বেশি প্রচলিত। এই পাউডার ত্বকের জৌলুস বাড়ায়। এই পাউডার পাফ দিয়ে চোখের চারপাশে লাগানো উচিত।
আই-ব্রো
ভ্রূ চোখের আকার ফুটিয়ে তোলে। মুখের সৌন্দর্য বাড়ায়। আইশ্যাডো লাগানোর আগে ভ্রূ-র মেকআপ করুণ। ভ্রূ-র স্বাভাবিক আকৃতি ঠিক রেখে পেন্সিল দিয়ে রেখো টানুন।
আইশ্যাডো
আইশ্যাডো লাগানোর প্রথম পর্বে চোখের সঠিক আকার দেখে নিন। চারটি ম্যাচিং রঙের মধ্যে আপনি নিজের পছন্দমত যে কোন রঙ বিশেষ করে পাউডার বেস ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে চোখ একটু ভাসাভাসা করে তোলার জন্য হাল্কা রঙ লাগান। এরপর নিজের আউটফিটের সঙ্গে ম্যাচ করে যে কোনও রঙ লাগান। এরপর চোখের পাতা সাজানোর জন্য আইলাইনার এবং মাস্কারা লাগান।

ফুলের বনে যার পাশে যাই তারেই লাগে ভালো





ফুল কি শুধুই দেখার? তার সুবাস নেত্তয়ার? ফুলও কি প্রেমের বার্তা,পিরিতির বন্ধন,প্রান তাক করা শর নয়? যুগে যুগে ফুল যুগান্তর এনেছে অঙ্গভূষনে, সাজসজ্জায়,কেশশোভায়। আর ফুল বলতে কি শুধুই গোলাপ?কেবলই জুঁই? মাত্রই বেলি? নয়ন ভরে চেয়ে দেখুন চুলের নতুন অলঙ্কার গ্ল্যাডিত্তলাস, ক্রিস্যান্থিমাম, কারনেশন আর আরও কত চেনা-অচেনা ফুল।
ফ্রেঞ্চ রোলে,মেরুন গ্ল্যাডিওয়াস:
চুল ভাল করে আঁচড়ে,সামনেটা ব্যাক কোম্বিং করে সামান্য ফুলিয়ে নিয়ে কানের পাশে ক্লিপ করে নিন। পুরো চুল এবার এক ধারে নিয়ে এসে উঁচু করে পনিটেল করুণ। পনিটেল এর চুল ভালভাবে ব্যাক কোম্বিং করে ব্রাশ করে নিয়ে এক দার থেকে ফোল্ড করে আরেক ধারে নিয়ে গিয়ে ভিতরের দিক রোল করে কাঁটা দিয়ে আটকান। ফ্রেঞ্চ রোলের ভাঁজে মেরুন গ্ল্যাডিওলাস ফুল কাঁটা দিয়ে লাগিয়ে নিন।
জাপানিজ রোলে,সাদা ও বেগুনি কারনেশন:
চুলের সামনে জিগজ্যাগ সিথিঁ করুন ঠেল কোম্ব দিয়ে। বাকি চুল টেনে ঘাড়ের কাছে পনিটেল করে তা তিন চার ভাগে ভাগ করে নিন। একেক ভাগ চুলের অংশ ঘাড় থেকে কানের পাশ অবধি রোল করে পিন লাগান। ভালভাবে সবগুলো চুলের রোল মিলিয়ে দেবেন যাতে শেষে জাপানিজ রোলের মতো দেখতে লাগে। শেষে এতে কারনেশন ফুল কাঁটা দিয়ে লাগিয়ে নেবেন।
ব্রাইডাল খোঁপার সঙ্গে লাল জাবেরা:
চুল ভালভাবে ব্রাশ করে নিন। মাথার সমানের চুল কয়েক ভাগে ্যভাগ করে নিয়ে একেক ভাগ চুল পেচিঁয়ে মাথার পিছনে ক্লিপ করে দিন। চুলের বাকি অংশ নিয়ে ঘাড়ের কাছে পনিটেল করে দু ভাগে ভাগ করে একেকটি ভাগ গোল করে ঘুরিয়ে কাঁটা লাগান। খোঁপান নেট লাগিয়ে জাবেরা ফুল দিয়ে সাজান।
ব্লোড ড্রাই করা চুল, সঙ্গে হলুদ লিলি:
চুল আঁচড়ে ব্লোড ড্রাই করে কানের পাশে হলুদ লিলি আটকে নিন।
ফ্রেঞ্চ ব্রেড,সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি তৈরি লম্বা ব্যান্ড:
চুল আঁচড়ে নিয়ে মাঝখানে ছোট সিঁথি করবেন। মাথার সামনের দু, পাশের কিছু চুলের অংশ নিয়ে সাগর বেনী করে কানের পাশে ক্লিপ দিয়ে আটকাবেন। মাথার পিছনের বাকি অংশের চুল লম্বা বেনী করে গোলাপের পাপড়ির তৈরি লম্বা ব্যান্ড লাগিয়ে নেবেন।
খোপায় রজনীগন্ধা ও কৃষ্ণকলি:
মাথার সামনে থেকে ঘাড় অবধি সাগর চোটি করে রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে নিন। ঘাড়ের কাছে পনিটেল করে গোল  করে ঘুরিয়ে কাঁটা লাগিয়ে নিন। খোঁপায় নেট লাগিয়ে তার উপরে রজনীগন্ধা ও কৃষ্ণকলি ফুলের তৈরি ব্যান্ড লাগিয়ে নিন।
শেষ করতে পানি অনায়াসে এই বলে যে সিলভার কিংবা ব্লু আই-লাইনার,মিস্টিরিয়স মভ লিপষ্টিকে নারীর সৌন্দর্য ফুটুক, না ফুটুক,ফুলের সাজে কিন্তু ফুটবেই। Full marks to flower!

নখের নতুন সাজ






‘চারুলতা’র শেষ দৃশ্যের কথা মনে আছে? দুটো হাত কাছাকাছি এসেও মিলল না, একটু ফাঁক থেকে গেল। না বলা কথা বলা হয় শুধু দুটি হাতের ভঙ্গিমায়। রূপচর্চা সাজগোজের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই হাতের কথা আমরা ভুলে যাই। অথচ হাতটাই নজরে আসে বেশি। ভাবুন তো আই-লাইনার,মাসকারা, লিপিস্টিক, ব্লাশ-অন সবই আছে, কিন্তু যখন হাতজোড়া করে নমস্কার জানাচ্ছেন কিংবা করমর্দন করছেন, নজরে এল একজোড়া অযত্নলালিত হাত। এবড়োথেবড়ো নখ, চিপড নেলপালিশ কিংবা পলিশবিহীন ম্যাড়ম্যাড়ে হলদে নখ। কেমন লাগবে? রুচির পরিচয় দেবে কে? তাছাড়া ফ্যাশনেবল হতে গেলে সবসময় তৎপর থাকতে হবে, হালফিরের কেতা-কায়দার জানকারি রাখতে হবে, নিজেকে আপডেট করতে হবে নিরন্তর। তবেই না আপনি হতে পারবেন আজকের নারী।
নেলপালিশ তো সবাই পড়ে। ভাবুন তো শীতের কোনও ইভিনিং পার্টিতেযাচ্ছেন কালো জমিতে আগুন-রঙা পাড়ের শাড়ি, সঙ্গে মানানসই ব্যাকলেস ব্লাউজ। বেরোনোর সময় টাইটা কেমন যেন বর্ণহীন মনে হচ্ছে। অথবা ফুশিয়া পিঙ্ক ট্রাউজার, ম্যাচিং কুর্তি,ক্রকোডাইল-ফ্রন্ট জুতো সবই হল কিন্তু হাতের দিকে তাকিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। হাতটা তেমন গর্জিয়াস দেখাচ্ছে না। জেনে নিন কী করবেন।
চিরাচরিত নেলপালিশ ছাড়াও নখের ওপর আঁকতে পারেন ফুলের নক্সা কিংবা জ্যামিতিক আকৃতি। সাজাতে পারেন ছোট ছোট পাথর, ক্রিস্টালে, নখে পরতে পারেন রিং অথবা স্টাড। মণি-মাণিক্য খচিত রাজমহিষীর অলঙ্কারের গ্র্যানজার। ক্যাট-ওয়াক কিংবা কফিশপ, আপনার জয়জয়কার নিশ্চিত। সিলভার পলিশে সিলভার গ্লিটার, গোল্ডেন পলিশে গোল্ডেন গ্লিটার নখে আনে ধাতব জেল্লা। অ্যাক্রিলিক, জেল, সিল্ক এবং লিনেন-এর টুকরো দিয়ে সাজাতে পারেন আপনার নখকে । বিয়ের সময় পরতে পারেন সোনা অথবা হীরের রিং।পরতে পারেন সেমি-প্রেশাস স্টোন-এর রিং।
অর্নামেন্টাল নেল-ট্যাটুস পাওয়া যায় যা নখের বাহারই শুধু বাড়ায় না, ছোট নখকেও বড় দেখায়। আঁকতে পারেন পছন্দমতো ডটস, ট্রাইপস অথবা স্টারস। বড় নখের ভেতরদিকে সোনালি রং এবং ওপরে লাল পলিশ পরলে দুটি রঙেরই ইফেক্ট পেতে পারেন।
একটা জলভরা পাত্রে আপনার প্রিয় ৩-৪ রঙের পলিশ ঢেলে টুথপিক দিয়ে হাল্কা করে নেনে নিন। আঙুল জলে ডুবিয়ে তুলে নিন। পলিশ শুকিয়ে নিন। ফ্রেঞ্চ, আমেরিকান এবং সুইস ম্যানিকিওর পদ্ধতিতে ট্রান্সপেরেন্ট, গোলাপি ও কনট্রাষ্ট রঙের মায়াজাল বুনতে পারেন আপনার নখে। স্বাভাবিক এবং কৃত্রিম  দু ধরনের নখেই এই শিল্প চলতে পারে।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ফুল দিয়ে সমাধান






যেমন বয়:সন্ধির একটি সমস্যা তেমনই তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদেরও! ব্রণ একটি বড় সমস্যা। আপনার ব্রণ নির্মূল করতে সহায়ক হবে যে পদ্ধতি সেটি হলো মুলতানি মাটি,৫টি পলাশ ও ২টি লেবু ফুল বাটা; আধখানা লেবুর রস, ২ চা-চামচ শসার রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে এলে আপেলের রস দিয়ে মুখ ভিজিয়ে, অল্প ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক শীতে ব্যবহারের সময়ে ত্বক যদি বেশি শুকনো হয়ে যায় তাহলে এটির সঙ্গে কমলা লেবু অথবা টমোটোর রস ব্যবহার করতে পারেন। এই প্যাকটি লাগাবার আগে গোলাপ জলে কর্পূর গুলে তা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। অনেক সময়ে ব্রন খুব বড় হয়ে পেকে যায়। সেক্ষেত্রে পেঁপের আঠা ও গাঁদা ফুলের রস একসঙ্গে মিশিয়ে ব্রণের উপরে লাগাবেন।
দাগ বা পিগমেন্টেশনের ক্ষেত্রে এক চা-চামচ চন্দন বাটা,এক চিমটে হলুদ, আধাখানা জায়ফলের গুঁড়ো,গাঁদা, গোলাপ ও কমলালেবুর রস বা আপেলের রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মিনিট দশেক মিশ্রণটি মেখে রেখে কাচাঁ দুধে তুলো ভিজিয়ে মুছে নিন। চোখের কালো কালো দাগ বা বলিরেখা দেখা দিলেও আপনি সাহায্য নিতে পারেন ফুলের রসের।
চোখের কাল দাগ:
দুটি পলাশ ফুল ও একটি গোলাপ ফুল কেটে নিন আলুর রসে। এই মিশ্রণে কয়েক ফোঁটা আমন্ডের তেল দিন। মিশ্রণটি চোখের চারপাশে আঙুলের আলতো চাপে কয়েক মিনিট মালিশ করার পরে পনেরো মিনিট রেখে দিন। ভেজা তুলো দিয়ে হাল্কা করে মুছে ফেলুন।
ত্বকের বলি রেখা :
ত্বকে বলিরেখা দেখা দিলে আন্ড তেলে গোলাপ বা লিলি ফুলের পাপড়ি বাটা মিশিয়ে মুখে মালিশ করুন। এরপরে এই প্যাকটি লাগান।আধ চা-চামচ আমন্ড গুঁড়ো,গোলাপের পাপড়ির রস,পাকা কলা ও পাকা পেঁপে চটকে একটি বেল বা জুইঁয়ের রস ও একটি লিলির পাপড়ি বাটা একসঙ্গে মেশান দুধের সর ও কয়েক ফোঁটা আমন্ড বা তিল বেলির সঙ্গে। এই প্যাকটি লাগিয়ে তারপরে অল্প শুকিয়ে গেলে শসার রস দিয়ে ভিজিয়ে অল্প নেড়ে নিন। ঠান্ডা পানিতে মুখের ত্বক ধুয়ে নিন।
পেডিকিওর:
আপনার শরীরে আরো দুটো গুরুত্বপূর্ন অংশে হাত ও পা। হাত পায়ের যত্নে আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। কিন্তু এটা ঠিক নয়। সুন্দর হতে হলে আপনাকে হতে হবে সর্বাংগীন সুন্দর। তাই প্রয়োজন হাত ও পায়ের বিশেষ যত্ন। এর জন প্রয়োজন পেডিকিউর ও মেনিকিউর। সৌন্দর্যহানি নিশ্চই ঘটে যদি আপনার পা দুটি পরিচ্ছন্ন, কোমল না হয়। পা সুন্দর করতে প্রথমে গরম পানি ও বেসন দিয়ে পা ধুয়ে নিন। আধ লিটার দুধে গোলাপের পাপড়ি; পোস্ত ফুল দিন। দুধে পা ডুবিয়ে রাখুন মিনিট দশেক। পরে ফুলের পাপড়ি পোস্ত ফুল দিন । দুধে পা ডুবিয়ে রাখুন মিনিট দশেক। পরে ফুলের পাপড়ি দিয়ে পা ঘষাতে খাকুন। এরপরে লেবুর রস ও চিনি দিয়ে পায়ে ঘষতে থাকুন যতক্ষণ না চিনি গলে যায়। পায়ের ত্বক খুব শুষ্ক হলে কয়েক ফোঁটা তিল তেল মেশাতে পারেন। এরপরে গোলাপের পাপড়ি বাটা ও অলিভ অয়ের তেলের মিশ্রণ পায়ে ঘষুন। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করার পরে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন। এই শীতে পা পরিষ্কার করদতে চিনা বাদামের গুঁড়া এক চামচ, চন্দন ও গাঁদার পাপড়ি রস একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ে ঘষতে পারেন। পাঁচ দশ মিনিট বাদে মুছে ফেলুন।
ম্যানিকিওর:
নিয়মিত হাতের যত্ন নেওয়াও প্রত্যেকের উচিত। ১ কাপ দুধে এক চিমটে কাচা হলুদ বাটা মেশান। তাতে লেবু ফুল ও চন্দ্রমল্লিকার পাপড়ি দিন। হাত দুধে ভেজান। পাঁচ দশ মিনিট বাদে পাপড়িগুলো দিয়ে ঘষে নিন। এবারে ম্যাসাজ করুন গোলাপের পাপড়ির রস ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল তেলের মিশ্রণ দিয়ে। শেষে চন্দ্র, কাচাঁ দুধ ও গোলাপের পাপড়ি একসঙ্গে মিশিয়ে এটি দিয়ে ম্যাসাজ করুন পাঁচ দশ মিনিট তারপর মুছে ফেলুন শুকনো,নরম কাপড় দিয়ে।
সতকর্তা:
রূপচর্চায় ফুল ব্যবহারের সময়ে বাজার থেকে কেনা ফুল ধুয়ে নেবেন। কারণ অনেক সময় ফুলে কীটনাশক ব্যবহারে ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে ভাল নিজেই বাড়ির ফুলের গাছ লাগান। ফুলে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। অজানা ফুল ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ ফুলের রসে ভেষজ গুণ যেমন থাকে তেমনই অনেক ফুলে বিষাক্ত রসও থাকতে পারে যা ত্বকের ক্ষতি করে।

ত্বক উজ্জ্বল করতে করনীয়




আপনার শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হল, আপনার ত্বক। ত্বক আপনার শরীর শুধু ঢেকেই রাখে না, শরীরকে দেয় সুষমা, দেয় সৌন্দর্য। জীবন্ত এই অঙ্গটি শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোকে সযতনে রক্ষা করে রোদের প্রকোপ এবং বিভিন্ন আঘাত থেকে। শরীরের তাপ স্বাভাবিক রাখতেও ত্বকের সক্রিয় ভূমিকা অনন্য। সে জন্য ত্বকের চাই সঠিক যত্ন। কারণ ত্বকের প্রদাহ হলে তা যেমন কষ্টকর, তেমনই দেখতেও খারাপ লাগে। ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে ত্বক সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার।
ত্বকের পরিচয়
ত্বকের প্রধান দুটি ভাগ রয়েছে। এর বাইরের অংশের নাম এপিডার্মিস। যাতে আছে বেশ কয়েকটি কোষ স্তর। যার মধ্যে নিম্নতম স্তরটি নাম ‘মাদার সেল’। এই অংশের কোষগুলো বিভাজিত হয়ে উপরে উঠে আসে, চ্যাপ্টা হয়ে মারা যায় এবং কেরাটিন-এ পরিবর্তিত হয়ে ঝরে পড়ে। এই বাহ্যিক স্তরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নিম্নস্তর বা ডার্মিস। ডার্মিস প্রোটিন-ফাইবার কোলাজেন ও স্থিতিস্থাপক ফাইবার দিয়ে তৈরি। এতে রয়েছে বিভিন্ন গ্রন্থি, রোমের মূল, শিরি, উপশিরা ও স্নায়ু।
ত্বকের যত্ন
ত্বক সম্পর্কে বেশ কিছু জেনেছেন ইতিমধ্যে। এবার ত্বকের যত্নের কথায় আসা যাক। এই পর্যায়ে পড়ে তিনটি জিনিস: ত্বক পরিষ্কার, ত্বক রক্ষা ও ত্বক পুষ্টি।
ত্বক পরিষ্কার
এ জন্য নিয়মিত মুখ গা হাত পা পরিষ্কার করে ধোওয়া দরকার। মুখই দিনে তিনবার ভাল করে পরিষ্কার করা চাই। অন্তত দিনে দু’বার সকালে ও রাত্রে বিছানায় যাবার আগে ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। ক্লিনজার ত্বকের গভীরে ঢুকে ময়লা বের করে আনে। সারা শরীরে কোমল সাবান অথবা লিকুইড সোপ দিয়ে গোসল করুন। ত্বক যদি খুব তেলতেলে হয়, তাহলে বেসন দিয়ে শরীর পরিষ্কার করতে পারেন। যাদের ত্বক খুব শুল্ক, তারা বেসনের পরিবর্তে ময়দাও কাঁচা দুধের সরের মিশ্রন ব্যবহার করবেন। তবে প্রতিদিন এভাবে গোসল করা সম্ভব হলে সে-ক্ষেত্রে শরীরের জন্য সাবান ও মুখে ক্লিনজার যথেষ্ট। মুখ পরিষ্কারের পর করতে হবে টোনিং অর্থাৎ ত্বককে উজ্জীবিত করতে। এর জন্য ব্যবহার করুন স্কিন টনিক। যদি ত্বক হয় স্বাভাবিক বা শুল্ক এবং তেলতেলে ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যাসট্রিনজেন্ট। এই টোনার বা অ্যাসট্রিনজেন্ট স্ফীত লোমকূপ বন্ধ করতে সাহায্য করে।
ত্বক রক্ষা:
সূর্যের রশ্মি ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু। এই রশ্মি পোশাক ভেদ করেও ঢুকতে পারে। সানস্ক্রিন ত্বকের উপর মেখে নিন রোদের হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবেন।
ত্বকের পুষ্টি সাধন
এর জন্য নিয়মিত সারা শরীর হ্যান্ড অ্যান্ড বডি লোশন ব্যবহার করবেন এবং মুখে ময়শ্চারইজার লাগাবেন। সুষম খাদ্য খাবেন। যথেষ্ট ফলমূল,সবজি খাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম,যোগাসন করবেন অথবা প্রতিদিন ১ ঘন্টা হাটবেন।

চুলের বড় শত্রু উকুন






পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অনেকগুলো বিভাগের মধ্যে রয়েছে মাথা এবং চুল পরিষ্কার করা। আমরা সব সময় মাথায় শ্যাম্পু তেল, ভেষজ ইত্যাদি নানা রকম উপকরণ দিয়ে মাথার ত্বক এবং চুল পরিষ্কার করার কথা বলে থাকি। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখছেন কুশকীর চেয়েও মাথা এবং চুলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু কি?
উত্তর: একটাই উকুন। উকুনের যাতনা সহ্য করেননি এমন খুব কমই মানুষ পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো উকুন কেন হয় আর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মাথায় কেন বেশী হয়?
এবং উত্তর হলো: যে কোন অপরিচ্ছন্ন জায়গায় জীবানু বা পোকামাকড় সংক্রমিত হয় বাসা বাধে। যারা নিয়মিত চুলের যত্ন নেন না,
চোখের কোলে কালো দাগ বা বলিরেখা দেখা দিলেও আপনি সাহায্য নিতে পারেন ফুলের রসের।
চোখের কাল দাগ:
দুটি পলাশ ফুল ও একটি গোলাপ ফুল কেটে নিন আলুর রসে। এই মিশ্রণে কয়েক ফোঁটা আমন্ডের তেল দিন। মিশ্রণটির চোখের চারপাশে আঙুলের আলতো চাপে কয়েক মিনিট মালিশ করার পরে পনেরো মিনিট রেখে দিন। ভেজা তুলো দিয়ে হাল্কা করে মুছে ফেলুন।
ত্বকের বলিরেখা:
ত্বকে বলিরেখা দেখা দিলে আমন্ড তেলে গোলাপ বা লিলি ফুলের পাপড়ি বাটা মিশিয়ে মুখে মালিশ করুন। এরপর এই প্যাকটি লাগান। আধ চা-চামচ আমণ্ড গুঁড়ো, গোলাপের পাপড়ির রস,পাকা কলা ও পাকা পেঁপে চটকে একটি বেল বা জুঁইয়ের রস ও একটি লিলির পাপড়ি বাটা একসঙ্গে মেশান দুধের সর ও কয়েক ফোঁটা আমণ্ড বা তিল বেলির সঙ্গে। এই প্যাকটি লাগিয়ে তারপরে অল্প শুকিয়ে গেলে শসার রস দগিয়ে ভিজিয়ে অল্প নেড়ে নিন। ঠান্ডা পানিতে মুখের ত্বক ধুয়ে নিন।
পেডিকিওর:
আপনার শরীরে আরো দুটো গুরুত্বপূর্ন অংশে হাত ও পা। হাত পায়ের যত্নে আমরা অনেক সময় অবহেলা করি। কিন্তু এটা ঠিক নয়। সুন্দর হতে হলে আপনাকে হতে হবে সর্বাংগীন সুন্দর। তাই প্রয়োজন হাত ও পায়ের বিশেষ যত্ন। এর জন্য প্রয়োজন পেডিকিউর ও মেনিকিউর। সৌন্দর্যহানি নিশ্চয়ই ঘটে যদি আপনার পা দুটি পরিচ্ছন্ন, কোমল না হয়। পা সুন্দর করতে প্রথমে গরম পানি ও বেসন দিয়ে পা ধুয়ে নিন। আধ লিটার দুধে গোলাপের পাপড়ি; পোস্ত ফুল দিন। দুধে পা ডুবিয়ে রাখুন মিনিট দশেক। পরে ফুলের পাপড়ি দিয়ে পা ঘষতে থাকুন। এরপরে লেবুর রস ও চিনি দিয়ে পায়ে ঘষতে থাকুন যতক্ষণ না চিনি গলে যায়। পায়ের ত্বক খুব শুল্ক হলে কয়েক ফোঁটা তিল তেল মেশাতে পারেন। এরপর গোলাপের পাপড়ি বাটা ও অলিভ অয়ের তেলের মিশ্রণ পায়ে ঘষুন। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করার পরে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন।
এই শীতে পা পরিষ্কার করতে চিনা বাদামের গুঁড়া এক চামচ, চন্দন ও গাঁদার পাপড়ি রস একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ে ঘষতে পারেন। পাঁচ দশ মিনিট বাদে মুছে ফেলুন
ম্যানিকিওর:
নিয়মিত হাতের যত্ন নেওয়াও প্রত্যেকের উচিত। ১ কাপ দুধে এক চিমটে কাঁচা হলুদ বাটা মেশান। তাতে লেবু ফুল ও চন্দ্রমল্লিকার পাপড়ি দিন। হাত দুধে ভেজান। পাঁচ দশ মিনিট বাদে পাপড়িগুলো দিয়ে ঘষে নিন। এবারে ম্যাসাজ করুন গোলাপের পাপড়ির রস ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল তেলের মিশ্রণ দিয়ে।শেষে চন্দন , কাঁচা দুধ ও গোলাপের পাপড়ি একসঙ্গে মিশিয়ে এটি দিয়ে ম্যাসাজ করুন পাঁচ দশ মিনিট তারপর মুছে ফেলুন শুকনো,নরম কাপড় দিয়ে।
সতর্কতা: রূপচর্চায় ফুল ব্যবহারের সময়ে বাজার থেকে কেনা ধুয়ে নেবেন। কারণ অনেক সময় ফুলে কীটনাশক ব্যবহারে ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে সবচেয়ে ভাল নিজেই বাড়িতে ফুলের গাছ লাগান। ফুলে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। অজানা ফুল ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ ফুলের রসে ভেষজ গুণ যেমন থাকে তেমনই অনেক ফুলে বিষাক্ত রসও থাকতে পারে যা ত্বকের ক্ষতি করে।

চুলের পরিচর্যা




চুলের পরিচর্যার একটা বিশেষ দিক আছে। পর্যাপ্ত যত্নের অভাবে আমরা অকালে চুল হারিয়ে বিলাপ করি। সুন্দর থাকার প্রাথমিক শর্তহলো শুধু পোশাকের চাকচিক্য নয়, মুখশ্রীর মেকআপ নয়, শরীরের প্রতিটি অংশের সঠিক যত্ন নেয়া। কথায় বলে  শরীর ভালো তো মন ভাল। তাই সঠিক উপায়ে চুলের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আপনি যে ব্রান্ডের শ্যাম্পুই ব্যবহার করেন না কেন, তা যেন আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী হয়। যেমন রুক্ষ্ম,স্বাভাবিক এবং তৈলাক্ত চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। শ্যাম্পু করার আগে অবশ্যই মাথায় তেল ম্যাসাজ করে কমপক্ষে আধা ঘন্টা বা এক ঘন্টা রাখতে হবে। হট টাওয়েল দিয়ে ১০/১৫ মিনিট চুল জড়িয়ে রাখলে চুল আরো মোলায়েম হবে। এরপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগাবেন। যাদের কালার করা চুল তারা কালার শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। অনেকে চুলে কন্ডিশনার লাগালে চুল ঝড়ে যায়। তারা কন্ডিশনার দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। শ্যাম্পুযুক্ত কন্ডিশনারই তাদের জন্য যথেষ্ট।
চুলের বড় শত্রু খুশকী। এই খুশকী দূর করতে কত রকমের জারিজুরি। দু,চারদিন খুশকী গায়েব তো আবার উপদ্রব। এই চুলের মহাশত্রু খুশকীর যাতনা থেকে রেহাই পেতে হলে একটা সহজ উপায় জানিয়ে দিচ্ছি,তাহলো ১ চা চামচ মেথী আধা কাপ পানিতে ফুটিয়ে রস করে ১ টেবিল চামচ পরিমানে আনতে হবে। এইবার নারিকেল তেলের সাথে মেথির রসটাকে খুব ভাল করে ফেঁটে প্রতিটি চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভাল করে ম্যাসেজ করবেন। এই প্রক্রিয়ায় সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মেথী তেল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করলে খুশকীর বংশ নির্বংশ হবে আশা করা যায়। মেথীর আরো উপকারীতা আছে তাহলো মেথী চুলের গোড়া মজবুত করে এবং নতুন চুল উৎপাদনে সাহায্য করে।
যাদের চুল কাটার প্রয়োজন আছে তারা অন্তত ঈদের এক সপ্তাহ আগে চুল কাটলে ভাল হয়। চুল রঙ করা বা চুলের যত্ন নেয়ার আর একটি ভেষজ উপকরণ হচ্ছে মেহেদি। চুল রঙ করতে হলে পরিমাণ মত মেহেদি গুড়া বা বাটা চার চামচ চা পাতির লিকারে, দুই চামচ কফি পেষ্ট করে পুরো মাথায় লাগিয়ে রাখবেন অন্তত দুই ঘন্টা। পর পর তিন দিন এই প্রক্রিয়ায় মেহেদি লাগালে চুলের সুন্দর রঙ ও উজ্জ্বল চুলের অধিকারী হবেন। চুলে মেহেদী দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে শ্যাম্পু করা যাবে না। চুল স্বাভাবিক পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে যদি হালকা রঙ করতে চান তবে একদিন মেহেদিন মেহেদি দিলেই চলবে। পরদিন কোন হারবাল শ্যাম্পু বা যে কোন শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নেবেন। যারা চুল নানা রঙে রাঙাতে চান তারা বিউটি পার্লারের শরনাপন্ন হতে পারেন

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০১৫

এই ঈদে মেহেদী ব্যবহার করুন সতর্কতার সাথে




সৌন্দর্য্য চর্চায় মেহেদীর অপরিহার্যতার অনস্বীকার্য। এমন কোন নরনারী নেই যিনি জীবনে অন্তত একবার মেহেদীতে হাত রাঙাননি। মনে পড়ে সেই ছোটবেলাকার কথা যখন শবেবরাতের রাতে মেহেদী পরার ধুম লেগে যেত। সকাল থেকেই শুরু হতো শবেবরাতের খাওয়া-দাওয়ার আনন্দ। সেই সাথে মেহেদী পাতা গাছ থেকে পেড়ে সবাই মিলে বেটে কাঠি দিয়ে ফুল, লতা-পাতায় নক্সা করে মেহেদী পরা। তারপর দেখতাম কার হাতে মেহেদী কতটা রঙিন হয়েছে, কতটা সুন্দর কারুকাজ হয়েছে কার হাত বেশী সুন্দর লাগছে এইসব। এরপর রোজার ঈদে কোরবানীর ঈদে মেহেদী লাগানতো আছেই। ছেলে বুড়ো সবার হাতেই মেহেদীর রঙ কি যে ভালো লাগতো। আর বিয়ের বর কনেকে মেহেদী পরানোর একটা আলাদা উৎসবই আছে। মেহেদীতে হাত কনেকে মেহেদী পরানোর একটা আলাদা উৎসবই আছে। মেহেদীতে হাত না রাভালে বর-বধুর বিয়ের সাজে যেন অপূর্ণতা রয়ে যায়। বাসর রাতে বর যখন নববধূর হাত ধরে তখন মেহেদীর অপরূপ কারুকাজ ও রঙ দেখে সে মোহিত না হয়ে কি পারে?
মেহেদী চুল রাঙাতে ও অন্য যেকোন হেয়ার কালারের চেয়ে ফলপ্রসূ। মেহেদী যেমন সাদা কালো সব চুলেই এনে দেয় রঙিন পরশ তেমনি চুলের পুষ্টি সাধন ও ঔজ্জল্য বাড়াতে ও মেহেদীর জুড়ি নেই।
যার চুল মেহেদীর রঙে রাঙাতে চান তাদের জন্য কয়েকটি টিপস:
১.রুক্ষ চুলে মেহেদী লাগাতে হলে প্রথমে চুলে তেল দিয়ে নেবেন। অথবা মেহেদী বাটার সাথে একটা ডিম ফেটে এবং ২ চা চামচ নারকেল তেল অথবা বাদাম তেল অথবা বাদাম তেল অথবা অলিভ অয়েল মিশিয়ে দিবেন। এগুলো আপনার চুলে কন্ডিশনিং-এর কাজ করবে।
২. চুল বেশী রঙ করতে গেলে কমপক্ষে ১ থেকে ২ ঘন্টা মেহেদী মাথায় রাখুন। যাদের  ঠান্ডা লাগার সম্ভবনা আছে তারা এগারোটা বারোটার মধ্যে মেহেদী মাথায় লাগিয়ে আধা ঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।
৩. মেহেদীর রঙ গাঢ় করতে ২ থেকে ৪ চা চামচ চা পাতা জ্বলে দিয়ে ঘন লিকার করে মেহেদীর সাথে লাগান।
৪. ২ চা চামচ ব্ল্যাক কফি একটু গরম পানিতে বানিয়ে মেহেদীর সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান।
৫. যাদের মাথায় খুশকী আছে তারা কাঁচা মেথী ২ চা চামচ বেটে মেহেদীর সাথে মিশিয়ে লাগান।
৬. মেহেদী রঙ যারা গাঢ় করতে চান তারা পরপর তিনদিন এই প্রক্রিয়ায় মেহেদী লাগান। তবে মনে রাখতে হবে মেহেদী লাগানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে চুলে শ্যাম্পু করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে শ্যাম্পু করলে শ্যাম্পুতে মেহেদীর রঙ অনেকটা বেরিয়ে যায়।
৭. মেহেদীতে অনেক সময় চুল ড্রাই হয়ে যায় সেজন্য মেহেদী লাগানোর পর চুল ধুয়ে চুলে কন্ডিশনার লাগান।
৮. কন্ডিশনার অথবা শ্যাম্প হিসাবে আপনি প্রাকৃতিক নির্যাস ব্যবহার করকতে পারেন। যেমন মসুরের ডাল বাটা, রিঠা, আমলা, শিকাকাই, বাটা, আঠালো মাটিএতে কোন ক্যামিক্যাল এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলে এগুলো চুলের জন্য যেমন ভাল তেমনি চুলের রঙের ও কোন ক্ষতি করে না।
৯. মেহেদী দু রকমের পাওয়া যায়। যথা:
ক. বাজারের প্রক্রিয়াজাত গুড়ো মেহেদী।
খ. গাছ থেকে পাড়া কাঁচা মেহেদী। এটিও বাজারে পাওয়া যায়।
তবে প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত মেহেদীর দাম একটু বেশী। ৩৫/৪০ টাকা প্রতি প্যাক। আর কাচা মেহেদী এটিও বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। ছোট চুলে ১০ টাকার বড় চুলে ১৫/২০ টাকার মেহেদীতেই আপনি কাজ চালাতে পারেন।

সৌন্দর্য্য চর্চার গুরুত্ব কথা



সৌন্দর্য্যের পূর্ন প্রকাশ ঘটাতে হলে একটি সঠিক সামঞ্জস্যের প্রয়োজন। এই সামঞ্জস্যের প্রথম পর্ব হচ্ছে সামঞ্জস্যপূর্ন শরিরীক গড়ন, এর পর একে একে আসে যেসব পর্বের কথা সেগুলো হলো-ত্বকের উজ্জ্বলতা,নিখুত মেকআপ,মানানসই হেয়ার স্টাইল এবং সঠিক রঙের রুচিশীল সাজ পোশাক ও অলংকার। এসবকিছুই যেমন প্রত্যেক নারীকে সুন্দরী হতে সাহায্য করে,তেমনি শুধুমাএ এ সবকিছুর মাধ্যমেই যে সৌন্দর্য সম্পূর্ন করে ফুটিয়ে তোলা যাবে তা নয়। বরং সৌন্দর্য পরিপূর্নতা লাভ করে তখনই যখন এসবের সাথে যুক্ত হয় আত্নবিশ্বাস,মার্জিত আচার আচরণ সুন্দর ব্যবহার চলাফেরা ও বসার সঠিক ভঙ্গি,কথা বলার নম্র ধরণ,রুচিশীল আদব-কায়দা ও আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব।
আত্নবিশ্বাস: প্রতিনিয়ত আমরা কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে থাকি। যে সমাজে আমরা বড় হয়েছি,চলাফেরা এ কার্যকর্ম করছি সে সমাজে এখন অনেক কথা বলা হলেও এখনো সে সমাজ বেশ রক্ষণশীল। বিশেষ করে মেয়েদের আরো বেশি বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয়। বর্তমান আধুনিক সময়ে যদিও পড়াশোনার ক্ষেতে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে খুব একটা প্রভেদ নেই তারপরও মেয়েদের ক্ষেতে সমাজের যে নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ আছে,তাকে অতিক্রম করা সম্ভব কেবলমাত্র আত্নবিশ্বাসের মাধ্যমে দৃঢ় আত্নবিশ্বাসই নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার এক মাত্র আয় সে নারী হোক বা পুরুষ হোক না কেন। আর নারীর বেলায় বলবো,নারী যেন শুধু নারী নয় একজন ব্যক্তি মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন এবং প্রতিষ্ঠিত করতে পারে সেই দিকে বিশেষ যত্নবান হতে হবে
আচার ব্যবহার: আপনার আচার-ব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে আপনার সঙ্গ অন্যের কাছে কতটা আকর্ষনীয় ও আদারনীয় আর এই জ্ঞান আপনি অর্জন করতে পারবেন আপনার পরিবার থেকে। সুতরাং আপনার পরিবারকে হতে হবে এ ব্যাপারে সচেষ্ট। আপনার প্রতি পরিবারের এবং পরিবারের প্রতি আপনার এই দায়িত্ব রয়েছে সমানভাবে। এক্ষেত্রে আপনাকে করতে হবে স্বাভাবিক আত্নমর্যাদাটুকু বজায় রেখে একজনের পক্ষে যতটা বিনয়ী ও নম্র হওয়া সম্ভব সেটুকু স্বভাব অর্জন করা।
ব্যক্তিত্ব: সুন্দর হবার প্রথম শর্ত সুন্দর ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব। এবার আসা যাক চলন বলন ও আচার আচরনের প্রসঙ্গে। আপনি ভাবছেন একজন শিক্ষিত মানুষকে নিশ্চই তার চলন আচার আচরণ সম্পর্কে জ্ঞান দানের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু আমরা অনেকেই জ্ঞান থাকা সত্তেও সেই জ্ঞানের প্রয়োগটা যথাসময়ে যথাভাবে করে উঠতে পারিনা বা করিনা। এটার মূল কারণ নিজের ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতির অভাব নিজের সচেতনতার অভাব। আপনি যদি নিজ সম্পর্কে সচেতন হয়ে চলেন। আপনার চারপাশে কারা আছেন এক কথায় স্থান,কাল,পাত্র বুঝে চলেন কথা বলেন বা আচর আচরন একটু সচেতন ও মার্জিতভাবে করেন তবেই আপনার মধ্যে প্রকাশ পাবে বিশেষ এক ব্যক্তিত্ব। প্রতিটি মানুষ তার আচার ব্যবহার ও ব্যক্তিত্বের কারণে আলাদা বিমোচনে ভূষিত হতে পারে। এককথায় অর্থ এই নয় যে আপনি সব ক্ষেত্রেই ভাব গম্ভির হয়ে থাকবেন। স্থান কাল ও পাত্র ভেদে আপনার অভিব্যক্তি আপনি প্রকাশ করতে সচেষ্ট হবেন।
আপনার সুন্দর বাচন ভঙ্গি আপনার ভাবনা ও কথার গম্ভীরতা সহজেই পারে যে কাউকে আকৃষ্ট করতে। সব সময় মনে রাখা উচিত এই জীবন, যৌবন রঙ রূপ সবই ক্ষণস্থায়ী। মানুষ মনে রাখে মানুষের গুন মানুষ মনে রাখে মানুষের ব্যবহার তার কথা। দিন যায় কথা থাকে। রঙ রূপ দুদিন থাকে নিজেকে গড়ে তুলুন একজন গুনী মানুষরূপে একজন ভদ্র মার্জিত রুচিবান ভাল মানুষ রুপে। আপনার ভালো বা অসুন্দর রূপের ভাবনা না ভেবে নিজের ভেতরের সৌন্দর্যকে মেনে চলুন। তবেই আপনি হতে পারবেন প্রকৃত সুন্দর একজন মানুষ।
মানব চরিত্রের সবচেয়ে বড় গুন হলো ব্যক্তিত্ব। এই ব্যক্তিত্ব একজন অতি সাধারণ নর বা নারীকে অসাধারণ করে তোলার । দৈহিক সৌন্দর্য রক্ষার পাশাপাশি জীবনের প্রতিক্ষেত্রে সঠিক মতামত প্রকাশ করাও দৃঢ়ভাবে সে মত পোষন করে চলার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়াও আরো যে বিষয়গুলো সব সময় মনে রাখা প্রয়োজন তাহলো ছোটদের সাথে আপনার ব্যবহার হবে যেমন সহজ-সরল তেমনি সমবয়স্কদের কাছে আপনা ব্যবহার হওয়া উচিত হাসি খুশি,উদার ও খোলামেলা। কিন্তু বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা,বিনয়ী ও নম্র ভাব প্রকাশ করতে হবে। আর সমতা হলেই বয়সীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন আচরণ আপনার ব্যক্তিত্বে ফুটিয়ে তুলবে বিশেষ গুন আপনি সবার কাছে হবেন আদরনীয়।
আপনার চরিত্রের সাথে প্রয়োজন শিষ্টাচার ও আতিথিয়তা,দাঁড়ানো,বসা বা হাঁটাচলা,হাসি ও কথা বলাতে থাকবে অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রতিদিন স্থান কাল পাত্র ভেদে আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে কোথায় কখন কার সাথে কিভাবে কি কথা বলতে হবে কিভাবে চলতে হবে। প্রয়োজনে অনেক কিছু মানিয়ে চলতে হবে আপনাকে। দেখবেন এগুলো আপনার ভেতরে তৈরিই ছিল।শুধু প্রকাশে কিছুটা কমতি ছিল। ক্রমাগত অনুশীলন বা চর্চার মাধ্যমে এ বিষয়গুলোই হবে আপনার চরিত্রের অনবদ্য বৈশিষ্ট্য।

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০১৫

How to Pick an Online Essay Help Service Wisely



One of the major challenges that people face in getting online essay help is identifying where they can get an essay that meets all academic requirements. Many freelance writers advertise online about how they can offer online writing services, but once someone orders a paper, their competence is put into question. People who are not aware of the companies that offer good services on essay help fall prey to poor quality writers, and many of them buy plagiarized and poorly structured papers that barely meet the minimum standards per academic writing requirements. The question that one must ask whenever he/she wants to purchase essays online is what characterizes a good essay. This is vital in understanding what one must look for when buying essays online.

What Makes a Good Online Essay Help Service?

Obviously, a good online essay helper is where you can find good online essay writers within one hour who will produce excellent essay papers. One of the most important things in an essay, is the format. Usually, essays have three main sections:
  1. The first section is the introduction. This section gives a synopsis of the topic under discussion. It also presents background information and justifies the decision to examine the topic in question. Reading the introduction an essay helps gives a general overview of the paper and all definitions that would enable the readers to understand the gist of the paper. The framework for discussion in any essay is laid down in the introduction section. Additionally, the introduction ends with a problem statement.
  2. Once this section is complete, it paves the way for the second and most important part of the essay, which is the body. The body of the essay expounds the ideas that have been highlighted in the introduction. The body may have several issues that the writer may want to discuss and each of those issues should be presented in paragraph form. In some cases, writers can use headings when discussing the issues but headings are preferably used when the essay is lengthy. The transition from one paragraph to another should be smooth, since this indicates that ideas flow from one part of the essay to another.
  3. The third part of the essay is the conclusion. Under the conclusion, the writer summarizes all the ideas presented in the body. This is usually done after restating the problem that the writer intended to address in the essay. If not in the introduction, new ideas should not be introduced.
Besides examining the format of the essay, one should now examine the details of the content. In this case, it is important to establish whether the essay contains properly structured ideas that are properly referenced. The essay must address everything purported to be addressed in the introduction, and this is important in ensuring that the writer gives value for his/her money. The ideas should be balanced in the sense that they should be explained in considerable length, unless an idea has other ideas embedded in it. Once this is done, you should make an assessment of the use of language and vocabulary to ascertain whether the writer actually knows what he/she is discussing. For instance, an essay that touches on issues about human heath must have medical terms because it is expected that the person who prepared the essay understands issues on human health and the terminologies associated with it. Improper use of terms is a clear indication that the writer was not qualified to prepare the essay. The reader may therefore want to find out the writer’s qualifications, and this would include examining the academic qualifications and experience of the author. It is usually difficult for many people to obtain such information about a writer, especially where the writer is a freelancer who is not affiliated with any online writing company. For those who write under online writing companies, the companies conduct thorough checks to ensure that the writer’s ability and the work assigned to him/her match. This means that the authenticity of papers prepared by writers affiliated with online writing companies can be verified, unlike the case of writers who are not affiliated with any of these companies. In addition to that, at ProPaperWritings.com you can check whether the paper satisfies your requirements before .paying to the writer. This ensures safety for your money
Once you are satisfied with the format and the content of the paper, you should check whether the paper was copy pasted from an existing work. In other words, checking for plagiarism is very important, and this can only be done if one has the required software and access to a wide range of materials prepared in the past. In this case, you can use online plagiarism checkers to make sure that your paper is original and does not include copy pasted materials. There are many online services, both paid and free, that run plagiarism checks against all online sources as well as the papers that were presented to them by various writers across the globe. This means that even though a paper was prepared by a writer affiliated with the online writing companies but it was not published, the company can still detect whether such works were copied. If you want online essay help should contact writing companies that can provide you with online essay writers in one hour, because they have all the resources required in preparing high-quality papers and presenting them to customers without delay. Therefore, contact our paper writings service as soon as possible, so we will help you complete your essay papers on time.

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫

ভূমি-স্বত্ব ও জমি জরিপের প্রয়োজনীয়তা




জমি জরিপ সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলে স্বভাবতই অঙ্গাঙ্গিভাবে চলে আসে ভূমি-স্বত্ব জনিত বিষয়গুলি। এই কথা অনস্বীকার্য যে ভূমি-স্বত্ব নিরূপণ করতে গেলে জমি জরিপ অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। প্রায় সর্বক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট জমির পরিমান ও চৌহদ্দি নিরূপন করতে হয় সঠিকভাবে।জমি জরিপ করে সঠিক ভাবে জমি জরিপের ব্যাপারটি বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ জানেন না। জমি জরিপের কাজটি সাধারণত করে থাকেন আমিনরা। আমিনদের জমি জরিপের কার্যবিধি না জানায় অনেকেই অন্ধকারে থাকতে হয়।
জমি নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষ দেওয়ানি আদালতে মামলা মোকদ্দমা করেন।অনেক সময়ই আদালতের নির্দেশে সার্ভে পাশ করা উকিলদের জমি জরিপ করে নির্দিষ্ট জমির জন্য রিপোর্ট দিতে বলে নির্দিষ্ট জমির ম্যাপসহ। সরকারি স্তরে জমি জরিপের দায়িত্ব অর্পিত হয় আমিনদের ওপর।
স্বভাবতই বোঝা যায় জমির পরিমান বা চৌহদ্দি নিয়ে গোলযোগ দেখা দিলে জমি জরিপের বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়।
এই অবস্থায় স্বভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে-জমি জরিপের নিরিখ কি হবে? কোন পদ্ধতি অনুসারিত হবে?
সব ধরনের জমির ওপর নিজ স্বত্ব কায়েম করা ব্যক্তিগত ভাবে প্রায় সব মানুষেরই একটা তীব্র আকাঙ্খা থাকে।স্বভাবতই জমির নিদির্ষ্ট পরিমান ও চৌহদ্দি নির্ধারিত করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। দেখা যায় জমি জরিপের নির্দিষ্ট জমিতে ভূমিস্বত্ব পাওয়ার জন্য কোনও জমির কোনও নির্দিষ্ট অংশ ক্রয়-বিক্রয় করতে গেলে ক্রেতাকে ও বিক্রেতাকে সেই অংশটি বুঝে নিতে হবে। দলিলে উল্লিখিত জমির পরিমান ও চৌহদ্দির বিশ্লেষন দেখে। জমির নির্দিষ্ট অংশ নানা আকারের হতে পারে। জমির আকার যে রকমই হোক না সঠিকভাবে জরিপ করলে জমির পরিমান বেরিয়ে আসবে। জমি জরিপের পর পিলার বা খুটি পুতে অংশটি নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। জমি জরিপ ছাড়া জমির আংশিক ক্রেতা কি করে বুঝবেন জমির দলিলে বর্নিত অংশের পরিমান সঠিক না বেঠিক? কাজেই ক্রীত অংশের জরিপ একান্ত প্রয়োজনীয়। ক্রেতাকে জরিপের মাধ্যমে বুঝে নিতে হবে তার নির্দিষ্ট অংশ ও চৌহদ্দি।
জমির মালিককে জানতে হবে জমি ক্রয়ের পর সেই নির্দিষ্ট জমি কোথায় ও কিভাবে নথিভূক্ত করতে হবে। জমির মালিলকে আরও জানতে হবে জমির মূল নকশায় কোন অংশটি ক্রেতার অংশ হিসাবে দেখানো হয়েছে এবং নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে আমিন দ্বারা তা জরিপ করানো হয়েছে কিনা। এরপরেই আসে মিউটিশনের কথা। কিভাবে বা কি পদ্ধতি মেনে কোন অথরিটি বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে এই মিউটেশন করার কথা বলতে হবে এবং এই মিউটেশনের জন্য কি ধরনের ফর্ম পূরণ করতে হবে।

ভূমি হতে বেদখল হলে প্রতিকার পাবার পদ্ধতি




ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার অন্যতম একটি হলো ভূমির দখল বজায় রাখা। অসাধু দাঙ্গাটে প্রকৃতির লোকেরা প্রায়ই নিরীহ লোকজনকে জোরপূর্বক বা চাতুরী পন্থায় ভূমি হতে উৎখাত করছে বা বেদখল করছে। এভাবে ভূমি হতে বেদখল করে কিভাবে দখল পুনরুদ্ধার করবেন তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:
ফৌজদারী আদালতে মামলা: কোন ব্যক্তি তার সম্পত্তি হতে অপর কোন ব্যক্তি দ্বারা বেদখল হওয়ার উপক্রম হলে বা বেদখল হলে বেদখল হওয়ার ২ মাসের মধ্যে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে বেদখল করার চেষ্টা হতে বিরত রাখার জন্য বা সম্পত্তিতে ঐ ব্যক্তির প্রবেশ বাতিল করে আদেশ প্রদানের জন্য ১ম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫ ধারার বিধান অনুসারে মামলা করতে পারবেন। এ ধরনের মামলা অল্প সময়ের মধ্যেই নিস্পত্তি হয়ে থাকে।
দেওয়ানী আদালতে মামলা: এ বিষয়ে “সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭” এর ৯ ধারায় বিধান হলো যিনি ভূমি হতে বেদখল হয়েছেন তাকে বেদখল হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে মামলা তামাদি দোষে বাতিল হবে।এভাবে ৯ ধারায় মামলা করে আদালতের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার করা যায়। তবে ৯ ধারার মামলায় স্বত্বের প্রশ্নটি বিচার্য হবে না। ৯ ধারায় মামলার প্রতিকার শুধু দখল সংক্রান্ত। এমন কি বাদী যদি সম্পত্তিতে নিজের স্বত্ব প্রমানে সমর্থ নাও হন কেবল বেদখল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দখলে থাকা প্রমান করতে পারেন, তবেই তিনি তার পক্ষে ডিক্রী পেতে পারেন সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে প্রদত্ত ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা রিভিউ করার কোন বিধান নেই। তবে মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন করা যাবে। তবে সম্পত্তিতে যার বৈধ মালিকানা স্বত্ব আছে তিনি কোন কারণে বেদখল হলে, বেদখল হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে বা বেদখল হওয়ার বিষয়টি অবহিত হওয়ার ১২ বছরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা মতে দেওয়ানী আদালতে মামলা করে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এ ধারার মামলায় সম্পত্তিতে বাদীর মালিকানা স্বত্ব থাকতে হবে।

ভূমি জরিপ চলাকালে ভূমি মালিকদের করণীয় কি?





ভূমি মালিকের জন্য ভূমি বা জমি জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। কোন ভূমি মালিক যদি ভূমি জরিপ কর্মকান্ডকে অবহেলা করেন তাহলে তাকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। জমি জরিপের সময় জমির মালিকানার ভিত্তি জমি রেকর্ড অর্থাৎ খতিয়ান তথা স্বত্বলিপি তৈরি করা হয়। এই রেকর্ডে জমির খাজনা প্রদান, কোনো সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহন, জমি বিক্রয় ইত্যাদির ক্ষেএে এই খতিয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে।সাধারণত কোনো এলাকা বা জমি জরিপ শুরু হওয়ার আগে ভূমি প্রশাসন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অত্র এলাকার জনগনকে অবহিত করেন। তারপর পূর্বে ঘোষিত নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী প্রসাশনের কর্মচারিরা কিস্তোয়ারা অথবা খানাপুরী অথবা খানাপুরী কাম বুঝরতে কাজ শুরু  করেন। কিস্তোয়ারের মাধ্যমে নকশা তৈরির পূর্বেই ভূমি মালিকগন তাদের জমির নিজস্ব সীমানা নির্ধারন করে রাখবেন। এতে জমি জরিপের সময় নিজে অথবা আপনার বিশ্বস্ত প্রতিনিধি জরিপ কর্মচারী তথা আমিনদের আপনারা জমির নির্দিষ্ট সীমানা দেখিয়ে নকশা প্রস্তুততে সহায়তা করবেন। যখন খানাপুরি অথবা খানাপুরি কাম বুঝরতে কাজ আমিন শুরু করবেন তখন ভূমি মালিকগন ভূমি মালিকানা সংশ্লিষ্ট, সকল কাগজপত্র অর্থাৎ আগের রেকর্ডর পর্চা বা দলিল দস্তাবেজ নিয়ে মালিক বা তার অভিজ্ঞ প্রতিনিধি মাঠে হাজির থেকে জরিপকারীর নিকট উপস্থাপন করে যথাযথভাবে নাম রেকর্ড করে নিবেন। এ ক্ষেএে সাবেক রেকর্ডের যদি মৃত্যু হয় তাহলে তার উত্তরাধিকারগন তাদের নাম ও ঠিকানা বর্ণনা করে নতুন করে নাম রেকর্ডভুক্ত করতে আমিনকে সাহায্য করবেন।

প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল লেখার নিয়ম





প্রতিষ্ঠানের নামে জমি দান বা ক্রয় করতে হলে তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বরাবরে দলিল করতে হবে। ব্যক্তির নাম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে দলিল করা যাবে না। দলিল করতে হবে”জুনিয়র স্কুল” “হাই স্কুল” “মাদ্রাসা” ও “কলেজের” ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক/ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা ভাইস-চেয়ারম্যানের অনুকূলে,প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির দলিল করতে হবে “মহাপরিচালক”প্রাথমিক ও গনশিক্ষা অধিদপ্তর,বাংলাদেশ,ঢাকা অথবা “সচিব” প্রাথমিক ও গনশিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়,ঢাকার অনুকূলে।
ভ্রম সংশোধন দলিল:দলিল রেজিষ্ট্রির পর তাতে দাগ,খতিয়ান,মৌজা চৌহদ্দি বা কারো নামে ভুল ধরা পড়লে তা খুব সহজেই সংশোধন করা যায়। এরূপ ভুল পড়ার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করতে হবে। ৩ বছর পর এরূপ মামলা তামাদির দ্বারা বারিত হয়ে যায় তাই তখন আর সংশোধন মামলা করা যায় না তবে তখন ঘোষনামূলক মামলা করা যায়। এরূপ মামলার রায়ই হলো সংশোধন দলিল। রায়ের ১ কপি আদালত হতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিষ্ট্রার এর নিকট পাঠিয়ে দিলে তিনি সংশ্লিষ্ট ভলিউম সংশোধন করে নিবেন।
দলিল বাতিলের পদ্ধতি: জাল,প্রতারনামূলক ভাবে দলিল সৃজন করা হলে তা জানার ৩ বছরের মধ্যে এরূপ দলিল  বাতিলের মামলা করা যায়। দলিল আংশিক বাতিলের মামলাও করা যায়। বাদী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখলে না থেকে থাকলে তিনি দলিল বাতিলের আবেদনের সাথে দখলের মামলাও করতে পারেন। দলিল বাতিলের মামলায় দলিলের মূল্যানুসারে কোর্ট ফি লাগবে।

প্রি-এমশনের অধিকার পাবার যোগ্যতা




৯৬ ধারার (১)   উপধারা অনুযায়ী, কোন রায়তের হোল্ডিং এর কোন খন্ড বা অংশ হস্তান্তরিত হলে উক্ত হোল্ডিং-এর এক বা একাধিক সহ-অংশীদার টেন্যান্টগন অথবা অপরাপর কোন সহ-অংশীদার অথবা সহ-অংশীদার গনের মধ্যে কেহ দরখাস্তকারী না থাকলে উক্ত হোল্ডিং-এর লাগ ভূমির মালিক বা মালিকগন প্রি-এমশনের অধিকার পাবার যোগ্য।
প্রি-এমশনের জন্য আদালতে আবেদনের সময় সীমা:
বিক্রীত হোল্ডিং এর সহ-অংশীদার বা সহ-অংশীদারগনের উপর রেজিষ্ট্রি অফিস হতে স্টেট একুইজিশন এন্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট এর ৮৯ ধারা মোতাবেক নোটিশ জারী হওয়ার দুই মাসের মধ্যে কিংবা নোটিশ জারি না হয়ে থাকলে হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে উক্ত সহ অংশীদার বা সহ-অংশীদারগনের নিকট উক্ত বিক্রীত হোল্ডিং হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু হোল্ডিং এর লাগ ভূমির মালিকদের ক্ষেত্রে বিক্রীত ভূমি হস্তান্তরের বিষয় অবগত হওয়ার দুই মাসের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে পারেন।
শর্ত হলো যে,কোন সহ অংশীদার টেন্যান্টের অথবা হস্তান্তরিত ভূমির লাগ ভূমির দখলকার টেন্যান্টের এই ধারা মূল্যে ক্রয় করার অধিকার থাকবেনা যদি না তিনি এমন ব্যক্তি হন যার নিকট হোল্ডিং বা ইহার খন্ড বা অংশ অবস্থাভেদে যেরূপ হবে নব্বই ধারা মোতাবেক হস্তান্তর করা যেতে পারে।

নাবালকের দলিল দাখিলার বিধান





রেজিষ্ট্রেশন আইন ১৯৮০ এর ৩৫ ধারা অনুসারে কোন নাবালক দলিল সম্পাদন করতে পারে না। তাই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনগত অবৈধ। নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক  হলো তার পিতা,পিতা কর্তৃক নিযুক্ত ব্যাক্তি,পিতামহ ও পিতামহ কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি। মা স্বাভাবিক অভিভাবক নয়। তাই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর বা অন্য কোন প্রয়োজনে স্বাভাবিক অভিভাবক না থাকলে নাবালকের আইনানুগত অভিভাবক নিয়োগের জন্য মেজরিটি এ্যাক্ট ১৮৭৫ এ জেলা জজকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এ আইন বলে জেলা জজ নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে উক্ত নাবালকের বয়স ২১ বছর পূর্ন হলে তবেই সে সাবালক বলে গন্য হবে। আদালত কর্তৃক কাউকে নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ না করা হলে সে নাবালকের বয়স ১৮ বছর পূর্ন হলেই সে সাবালক বলে গন্য হবে এবং তার সম্পত্তি হস্তান্তর বৈধ হবে।

দখলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি




চরের জমি,খাস জমি বা অর্পিত/পরিত্যক্ত সম্পত্তি একসনা লীজ নিয়ে ভোগ দখলদরত থাকা অবস্থায় অনেকেই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে স্বত্বের মামলা দায়ের করে থাকেন। যদিও একসনা লীজ কোন অধিকার সৃষ্টি করে না।লীজ গ্রহীতা মনে করেন যে সরকারী জমি বা খাস জমিতে ১২ বৎসর দখলে থাকলেই ঐ জমির মালিক হওয়া যায়। প্রকৃত সত্য হলো সরকারী জমিতে “জবর দখল” বা এর মাধ্যমে মালিকানা দাবীর সময় কাল ৬০ বৎসর। আর জবরদখল বলতে বুঝায় “প্রকাশ্য বিরোধিতা মূলক জবরদখল” একসনা লীজ বা ডি.সি. আর মূলে দখল হলো অনুমতি দখল যা প্রকাশ্য বিরোধীতামূলক জবর দখল নয়। ১২ বৎসর সংক্রান্ত ধার‍ণাটি মূলত ১৯৪৯ সনের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন থেকে এসেছে। এ আইনের ৬(২০) ধারায় বলা হয়েছে একজন অকৃষি প্রজা কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ১২ বৎসর বা অধিককালে ধরে অবস্থান করলে সে উক্ত জমিতে নিম্নরূপ অধিকার ভোগ করতে পারবেন।
১. পাকা বাড়ি তৈরি করতে পারবেন
২.যে কোন ধর্মীয় উপসানালয় তৈরি করতে পারবে
৩. পুকুর খুড়তে পারবে
৪. গাছ লাগিয়ে তার ফলভোগ করতে এবং উক্ত গাছ কর্তন/বিক্রয় করতে পারবে ইত্যাদি।

জরিপকালে ভূমি মালিকের করনীয়




ভূমি জরিপ ভূমির মালিকদের প্রয়োজনেই করা হয়। যদিও অনেকে জরিপ কার্যক্রমে জটিল ও অযথা মনে করে থাকেন। জরিপ এলেই তারা ভাবেন জরিপের কি প্রয়োজন ছিল,খামোখা ঝামেলা পোহাতে হবে। আবার অনেকে অন্যের জমি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়ার ভাবনায়ও মশগুল হয়ে ওঠেন।বাস্তবে জমি জরিপ করা হয় জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপএ পরীক্ষা নিরীক্ষা পূর্বকজমির মালিকানা স্বত্ব যেমন প্রতিষ্ঠিত হয় তেমনি একটু কষ্ট হলেও তার জমির কাগজপএ যথাযথ হয়ে যায়। তবে জরিপ সংক্রান্ত আইন কানুন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের যথেষ্ট ধারণা না থাকায় প্রায়ই ভূমির  মালিককে বিভিন্ন হয়রানিতে পড়তে হয়। তবে একটু সচেতন হলে এবং জরিপ কালে জরিপ স্থলে নিজে উপস্থিত থাকলে কোন হয়রানিতে পড়তে হবে না বলেই মনে করি। তাই পরবর্তী ঝামেলা এড়ানোর জন্য এবং সহজে নিজের জমি জরিপ করিয়া নেয়ার জন্য ভূমির মালিককে যা করতে হবে তা হলো: জরিপকালে জরিপকারী দলকে জমির সীমানা দেখিয়ে দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপএ দেখাতে হবে।

জমির অগ্র-ক্রয়াধিকার ক্রয় আইন(pre-Emption)





কৃষি ভূমি pre-Emption (অগ্রক্রয়াধিকার) আইন: “প্রি-এমশন”-শব্দের অর্থ হলো, অন্যদের চেয়ে একজনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রয় করার অধিকার।
“প্রি” অর্থ “আগে” এবং এমশন অর্থ “ক্রয়”
মুসলিম আইনে “প্রি-এমশনকে” সাফা বলে। সুতরাং, “প্রি-এমশন” শব্দের শাব্দিক অর্থ হল “অগ্রাধিকার”।
প্রি-এমশনের সংজ্ঞা: কোনো ক্রেতা যে মূল্যে বিক্রীত ভূমি ক্রয় করেছেন সেই একই মূল্যে অন্য কোন ব্যক্তির উক্ত ভূমি ক্রয় করার অগ্রাধিকারকে প্রি-এমশন (pre-Emption) বলে।
বেলীর (Baillie)-মতে, “কোন ক্রেতার কাছ হতে তার ক্রীত ভূমি খন্ড সমমূল্য প্রদান করে দখল করার অধিকারকে প্রি-এমশন বলে।
(ইস্ট বেঙ্গল এ্যাক্ট নং-২৮/১৯৫১) স্টেট একুইজিশন এন্ড টেন্যান্সী এ্যাক্ট ১৯৫০-এর ৯৬ ধারা কৃষি ভূমির প্রি-এমশনের আইন রয়েছে।